ট্রেনের পেজে লেখা থাকতে পারে “চলমান”, “লাইভ তথ্য নেই” বা “আজ বন্ধ”। এই নির্দেশিকায় বলা আছে প্রতিটির মানে কী, বিলম্ব কীভাবে হিসাব হয় এবং সময়গুলো কতটা ভরসা করা যায়।
ট্রেনের অবস্থার মানে
- নির্ধারিত: ট্রেন এখনও ছাড়েনি, আর ছাড়তে ৩০ মিনিটের বেশি বাকি। আপনি সময়সূচি দেখছেন।
- ছাড়বে: ৩০ মিনিটের মধ্যে ছাড়বে।
- যাত্রী উঠছে: প্রথম স্টেশনে যাত্রীরা উঠছেন।
- চলমান: ট্রেনে থাকা কোনো যাত্রী তাঁর যাত্রা শেয়ার করছেন, তাতে ট্রেনটি রুটের কোথায় আছে তা দেখানো হয়।
- লাইভ তথ্য নেই: ছাড়ার সময় পেরিয়ে গেছে, কিন্তু ট্রেনে কেউ শেয়ার করছেন না। ট্রেনযাত্রা অনুমান করে বলে না ট্রেনটি কোথায়, আর ছেড়েছে বা পৌঁছেছে এমনও বলে না।
- গন্তব্যে: ট্রেন শেষ স্টেশনের প্রায় ৪০০ মিটারের মধ্যে।
- সম্পন্ন, বাতিল: চলাচল শেষ হয়েছে, বা বাতিল হয়েছে।
- আজ বন্ধ: আজ ট্রেনটি চলে না (নিচে দেখুন)।
বিলম্ব কীভাবে হিসাব হয়
বিলম্ব হলো কোনো স্টেশনে ট্রেনটি কখন পৌঁছানোর কথা (প্রত্যাশিত সময়) আর সময়সূচিতে কখন পৌঁছানোর কথা, এ দুইয়ের ফারাক। “লেট” মানে সময়সূচির পিছনে, “আগে” মানে সময়সূচির আগে।
৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকলে ট্রেনটিকে সময়মতো ধরা হয়, কারণ কয়েক মিনিট স্বাভাবিক এবং এর চেয়ে নিখুঁত করে স্টেশনের ঘড়ি কেউ পড়তে পারে না।
কেউ শেয়ার না করলেও ট্রেনযাত্রা সময়সূচি অনুযায়ী অনুমান দেখাতে পারে। সর্বশেষ জানা বিলম্ব ধরে অনুমান করলে পেজে তা লেখা থাকে: এটা অনুমান, অবস্থান নয়।
বন্ধের দিন
বেশিরভাগ ট্রেন সপ্তাহে একদিন চলে না। সেটাই ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ: পেজে তা লেখা থাকে, আর ওই দিন অবস্থার জায়গায় “আজ বন্ধ” দেখায়। বন্ধের দিন নিয়মিত সূচির অংশ, বাতিল নয়।
ট্রেন কতটা সময়মতো চলে
ট্রেনের পেজে গত ১৪ দিনের চিত্র থাকে: শেষ স্টেশনে সাধারণত কত দেরিতে পৌঁছায়, আর কয়দিন সময়মতো (৫ মিনিট পর্যন্ত দেরিতে) পৌঁছেছে।
এই রেকর্ড তৈরি হয় যাঁরা যাত্রা শেয়ার করেছেন তাঁদের তথ্য থেকে। যেদিন কেউ শেয়ার করেননি সেদিন গোনা হয় না, আর অন্তত ৩ দিন মাপা হলে তবেই সারসংক্ষেপ দেখানো হয়। দু-একদিনের তথ্য বিভ্রান্ত করতে পারে, তাই তার কম হলে সারসংক্ষেপ দেখানো হয় না।
সময়সূচি ও বাস্তবতা
ট্রেনের পেজের সময়সূচি হলো প্রতিটি স্টেশনে তার নিয়মিত সময়। রেলওয়ে সময় বদলায়, ট্রেন যোগ বা তুলে নেয়, আবার ট্রেন দেরিও করে। তাই সময়কে পথনির্দেশ ধরুন, আর জরুরি কিছু বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে নিশ্চিত করে নিন।
রুটের পেজে দুটি স্টেশনের মধ্যে চলা ট্রেনগুলো থাকে, প্রতিটির ওই দুই স্টেশনে নিজস্ব সময় ও যেসব দিন চলে না সেসহ।
স্বাধীন ও অনানুষ্ঠানিক
ট্রেনযাত্রা বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট নয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে বা কোনো সরকারি সংস্থার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্কও নেই। এখানে টিকিট বিক্রি বা বুকিং হয় না।